খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন ই-সিম, জেনে নিন কিভাবে

গত ৭ মার্চ ২০২২ তারিখ থেকে গ্রামীণফোন ই-সিম চালু করলেও ট্যাক্স জটিলতার কারণে পুরোদমে eSIM চালু করা সম্ভব হয় নাই। বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ড ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির বাধার মুখে কয়েকদিনের মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয় ই-সিমের সাবস্ক্রিপশন। এরপর সংস্থাগুলো থেকে সবুজ সংকেত মিললে ২৫ এপ্রিল থেকে দেশে ই-সিম বিক্রি আবার শুরু করেছে গ্রামীণফোন। এখন খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন ই-সিম।

ই-সিম কি

eSIM এর পূর্ণরূপ ‘Embedded Subscriber Identity Module’, যা প্রচলিত ফিজিক্যাল সিম (মোবাইল সিম ট্রে তে রাখা সিম) এর তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক ও শক্তিশালী। যে সব মোবাইলে ই-সিম ব্যাবহারের জন্য মাইক্রোচিপ লাগানো থাকে কেবল সেই মোবাইলেই এই ভার্চুয়াল ও পরিবেশ বান্ধব ই-সিম ব্যবহার করা যায়। বলতে গেলে সাধারন সিমের মতোই চলবে এই ই-সিম।

যে সকল কাস্টমার কেয়ার থেকে ই-সিম সংগ্রহ করা যাবে

নতুন ই-সিম সংযোগ পেতে ক্রেতাদের ই-সিম সাপোর্ট করে এমন মোবাইল সেট নিয়ে গ্রামীণফোনের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের নিচে উল্লিখিত কাস্টমার সেন্টারে যেতে হবে। এগুলো হলো-

১. জিপি হাউস এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার (ঢাকা)

২. কাস্টমার কেয়ার লাউঞ্জ গুলশান (ঢাকা)

৩. কাস্টমার কেয়ার লাউঞ্জ জিইসি- সিটিজি (চট্টগ্রাম)

৪. মতিঝিল কাস্টমার কেয়ার (ঢাকা)

৫. ফার্মগেট কাস্টমার কেয়ার (ঢাকা)

৬. বসুন্ধরা সিটি কাস্টমার কেয়ার (ঢাকা)

৭. ঢাকা বিমানবন্দর কাস্টমার কেয়ার (ঢাকা)

৮. উত্তরা জসিমউদ্দিন রোড কাস্টমার কেয়ার (ঢাকা)

৯. সিমাান্ত স্কয়ার কাস্টমার কেয়ার, ধানমন্ডি (ঢাকা)

১০. সিলেট করিমুল্লাহ মার্কেট কাস্টমার কেয়ার (সিলেট)

এছাড়া জিপি অনলাইন শপ থেকেও আপনি ই-সিম ক্রয় বা মাইগ্রেশন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে গ্রামীন ফোনের একজন দায়িত্বরত ব্যক্তি আপনার ঠিকানায় এসে আপনার বায়েমেট্রিক সংগ্রহ করবে।

কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে নতুন ই-সিমের জন্য ২০০ টাকা এবং আপনার বর্তমান ফিজিক্যাল সিমকে ই-সিমে রূপান্তর করতে চাইলে ৯৯ টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে আপনি যদি স্টার গ্রাহক হয়ে তাকেন তাহলে কোন টাকা পরিশোধ করতে হবে না। এরপর ই-সিমের জন্য বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করলে আপনাকে একটি QR Code দেয়া হবে। ওই QR Code আপনার ই-সিম সমর্থনযোগ্য মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে আপনার হ্যান্ডসেটের উপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিম একটিভ করতে হবে। এক্ষেত্রে স্মার্টফোনে ইন্টারনেট সংযোগ চালু থাকতে হবে।

যে সকল প্যাকেজ যুক্ত ফিজিক্যাল সিম ই-সিমে রূপান্তর করা যাবে

১. প্রিপেইড (নিশ্চিন্ত)
২. পোস্টপেইড (মাই প্লান)
তবে বিজনেস সল্যুশন (প্রিপেইড এবং পোস্টপেইড) গ্রাহকরা বর্তমানে ই-সিম এ মাইগ্রেশন করতে পারবেন না।

যে সকল মোবাইল হ্যান্ড সেটে ই-সিম চলবে

Apple

  1. iPhone 13, 13 Pro, 13 Pro Max, 13 Mini
  2. iPhone 12, 12 Pro, 12 Pro Max, 12 Mini
  3. iPhone SE
  4. iPhone 11, 11 Pro, 11 Pro Max
  5. iPhone XS, XS Max
  6. iPhone XR
  7. iPad Pro 12.9‑inch (4th generation)
  8. iPad Pro 12.9‑inch (3rd generation)
  9. iPad Pro 11‑inch (2nd generation)
  10. iPad Pro 11‑inch (1st generation)
  11. iPad Air (4th generation)
  12. iPad Air (3rd generation)
  13. iPad (8th generation)
  14. iPad (7th generation)
  15. iPad mini (5th generation)

Samsung

  1. Samsung Galaxy S22 5G, Ultra 5G, S22+ *(official version will support eSIM by April 01, 2022)
  2. Samsung Fold LTE model
  3. Samsung Galaxy Z Fold3 5G
  4. Samsung Galaxy Z Flip 5G
  5. Samsung Galaxy Z Flip
  6. Samsung Galaxy Z Fold2 5G
  7. Samsung Galaxy Fold
  8. Samsung Galaxy S21+ 5G *(coming soon)
  9. Samsung Galaxy S21 Ultra 5G *(coming soon)
  10. Samsung Galaxy Note 20 FE 5G *(coming soon)
  11. Samsung Galaxy Note 20 FE *(coming soon)
  12. Samsung Galaxy Note 20, 20+, 20 Ultra, Ultra 5G *(coming soon)
  13. Samsung Galaxy S20, S20+, S20 Ultra *(coming soon)

 

Google Pixel

  1. Google Pixel 6 Pro
  2. Google Pixel 6
  3. Google Pixel 5a 5G
  4. Google Pixel 5
  5. Google Pixel 4a
  6. Google Pixel 4
  7. Google Pixel 3 & 3XL (Limited support)
  8. Google Pixel 2

তবে গ্রামীণফোনের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ যুক্ত হওয়া ই-সিম সাপোর্ট করা মোবাইল সেটের তালিকাটি দেখতে পারেন।

আপনি কি আপনার ই-সিমকে পুনরায় ফিজিক্যাল সিমে রূপান্তর করতে পারবেন?

সহজ উত্তর হলো ‘হ্যাঁ’, পারবেন। যে কোন সময়ে। তবে এ ক্ষেত্রে আপনাকে কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে পুনরায় eSIM মাইগ্রেশনের জন্য অনুরোধ করতে হবে। এরপর একই প্রক্রিয়ায় প্রথমে বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আপনার হ্যান্ডসেট থেকে eSIM প্রোফাইল নিষ্ক্রিয় করে মুছে ফেলতে হবে। এরপর আপনার শারীরিক সিম কার্ড ব্যবহার করতে আপনার হ্যান্ডসেটের উপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তবে এক্ষত্রেও অবশ্যই আপনার হ্যান্ডসেটে ইন্টারনেট সংযোগ চালু থাকতে হবে।

মোবাইল হ্যান্ডসেট পরিবর্তন করলে করণীয় কী?

আপনি যদি আপনার হ্যান্ডসেট পরিবর্তন করতে চান, তাহলে আপনার নতুন মোবাইল হ্যান্ডসেটে ই-সিম ব্যবহার করতে চাইলে এই ধাপগুলি অনুসরণ করুন:

১. আপনার নতুন মোবাইল হ্যান্ডসেটে ইন্টারনেট সংযোগ চালু করুন

২. আপনার আগের হ্যান্ডসেট থেকে eSIM প্রোফাইল নিষ্ক্রিয় করুন এবং মুছুন

৩. আপনার নতুন হ্যান্ডসেট দিয়ে QR কোড স্ক্যান করুন

৪. আপনার নতুন হ্যান্ডসেটের উপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন

কিভাবে QR কোড স্ক্যান করবেন

Apple আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য

১. Settings এ যান

২. Cellular or Mobile Data ট্যাপ করুন

৩. ডেটা প্ল্যান যোগ করুন

৪. QR কোড স্ক্যান করুন (স্ক্যান করার সময় ফোনটি মোবাইল ডেটা/ওয়াই-ফাইয়ের সাথে সংযুক্ত আছে তা নিশ্চিত করুন)

৫. ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন

এরপর আপনার ইসিমে আপনার মোবাইল প্ল্যান ডাউনলোড এবং সক্রিয় করা হবে

SAMSUNG সেট ব্যবহারকারীদের জন্য

১. Settings > Connections > SIM card manager -এ যান

২. Add mobile plan চাপুন

৩. Add using QR code চাপুন

৪. QR কোড স্ক্যান করুন (স্ক্যান করার সময় ফোন মোবাইল ডেটা/ওয়াই-ফাই এর সাথে সংযুক্ত আছে তা নিশ্চিত করুন)

৫. ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন

এরপর আপনার ই-সিমে আপনার মোবাইল প্ল্যান ডাউনলোড এবং সক্রিয় করা হবে

মনে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট

১. QR কোড unique এবং এক বছরে সর্বোচ্চ দুইবার ব্যবহার করতে পারবেন। একবার স্ক্যান হয়ে গেলে, দয়া করে নিশ্চিত করুন যে আপনি মোবাইল অপারেটর (Carrier) যোগ করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছেন।

২. eSIM সেটিংস থেকে কখনোই “Delete” সিলেক্ট করবেন না। এতে এটি স্থায়ীভাবে eSIM প্রোফাইল মুছে ফেলবে।

৩. যদি একটি প্রোফাইল মুছে ফেলা হয়, গ্রাহককে QR কোড পুনরায় স্ক্যান করতে হবে এবং পূর্ববর্তী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
উভয় ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন।

১ thought on “খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন ই-সিম, জেনে নিন কিভাবে”

Leave a Reply