3D প্রিন্টিং মেটাভার্স পূনঃনির্মান করবে ইউক্রেনের ধ্বংসপ্রায় ভবন

ধ্বংসপ্রায় ভবন নির্মানসহ ইউক্রেন পূনর্গঠণে প্রস্তুত 3D প্রিন্টিং মেটাভার্স।  ইউক্রেন যুদ্ধে সেদেশের প্রায় অনেক শহরেই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। মারিউপোল, কারকিভ, রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরে রাশিয়া ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ধ্বংস হয়ে যায় উঁচু-নিচু প্রায় সব ভবন। তবে যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেন পূনর্গঠনে প্রযুক্তি কিভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে ইতেমধ্যে ভাবতে শুরু করেছে টেক জায়ান্ট কোম্পনিগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মেটাভার্স, এআই এবং বৃহৎ মাপের 3D প্রিন্টিং কোম্পানিগুলো। তাদের তৈরি করা প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনকে বিশ্বের নতুন আশ্চর্যের একটিতে পরিণত করতে পারে।

Apis Cor: থ্রিডি প্রিন্টার উপাদনকারী কোম্পানি

সম্প্রতি চাঁদে স্বায়ত্তশাসিত বিল্ডিংয়ের জন্য NASA একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতাটি ছিল চাঁদে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত ভবন নির্মাণ করা। বিজয়ী হয় থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান Apis Cor। এই প্রতিষ্ঠানটি চাঁদে কাঠামো তৈরির জন্য যে প্রযুক্তি তৈরি করেছে তা ইউক্রেনে দ্রুত অবকাঠামো তৈরির জন্যও কাজে লাগতে পারে।

ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষে এই প্রযুক্তিগুলির সাহায্যে ইউক্রেনীয় শহরগুলিতে ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা পূনঃনির্মাণ করে ফেলতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ফলে থ্রিডি প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশ্বের বিস্ময় হয়ে উঠতে পারে শহরগুলো। এছাড়া যারা যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে ইউক্রেনে ফিরে যেতে চায় তাদের জন্য একটি উন্নত জীবন যাপনের স্থান হয়ে উঠতে পারে ওই শহরগুলো।

3D মুদ্রিত বিল্ডিংগুলির জন্য শ্রমের একটি ভগ্নাংশের প্রয়োজন হয়, সময়ও কম লাগে। অন্যদিকে 3D মুদ্রিত বিল্ডিংগুলি প্রচলিত বিল্ডিংয়ের তুলনায় বিভিন্ন আকষ্মিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে অনেক বেশি।

মেটাভার্স

অনেক লোক মনে করে যে মেটাভার্স একটি জালিয়াতি। অনেকে ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও একই ধারণা করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, মেটাভার্স অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত কথা বলে এবং তারা ইন্টারনেটকে প্রতিস্থাপন করবে বলে ঘোষণা দেয়। এটা সত্য হতে পারে, কিন্তু এত সহজেই নয় কিংবা হতে পারে তা দীর্ঘ সময়ের পরে। তবে মেটাভার্সের ইউক্রেন পূনর্গঠণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে অফিস বিল্ডিং এবং কারখানার মতো জিনিসগুলির সিমুলেশন করতে পারে; যাতে কোম্পানিগুলি অবকঠামো সীমিত করার জন্য মেটাভার্সের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।

Nvidia – আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করছে

এনভিডিয়া কর্পোরেশন হল একটি আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি যারা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নিয়ে কাজ করছে। তাদের নব উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রজেক্ট আর্থ-২। এই প্রজেক্টের বৈশ্বিক-স্কেল সিমুলেশন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং আবহাওয়ার আরও সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে সাহায্য করবে। কিন্তু যেহেতু এটি একটি সিমুলেশন, তাই এটি মানব উন্নয়নের বৃহৎ ক্ষেত্রগুলিতে কাজ করার জন্য ভিন্নভাবে তৈরি হতে পারে যাতে পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ইউক্রেনের সাথে প্রকল্পটি শুরু করা হলে, আর্থ-২ সেই দেশের জন্য একটি টেমপ্লেট তৈরি করতে পারে যাতে ভবিষ্যতের নিরাপদ, আরও টেকসই এবং আরও সুরক্ষাযোগ্য শহর তৈরি করা যায়।

তাছাড়া Nvidia-এর আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউক্রেন পূনর্গঠন কাজে নিয়োজিত কর্মীরা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি কাজ করে মানুষের জীবনযাত্রাকে আরো উন্নততর পরর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে, উন্নত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, রাস্তা যেখানে AI দ্বারা চালিত হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ করা হয়, এবং স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা যা ইউক্রেনের সম্পদ এবং নাগরিকদের বৈশ্বিক আক্রমণ থেকে আরও কঠোরভাবে রক্ষা করবে।

সর্বোপরি, 3D প্রিন্টিং মেটাভার্স এর মতো উদীয়মান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ইউক্রেন যুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে চালিত করে একটি ডিজিটাল বিশ্ব তৈরি করতে কাজ করে যেতে পারে। আজ যখন যুদ্ধের মেঘ ইউক্রেনকে ঢেকে দিয়েছে, একবার সেই মেঘ উঠে গেলে, সূর্য দ্রুত আলোকিত হতে পারে একটি নবায়নকৃত দেশে।

১ thought on “3D প্রিন্টিং মেটাভার্স পূনঃনির্মান করবে ইউক্রেনের ধ্বংসপ্রায় ভবন”

Leave a Reply