‘অফিসে বসেই মিটিংয়ে নতুন আইডিয়া মাথায় আসে, ভিডিও কনফারেন্সে নয়’

কোভিড মহামারির কারণে প্রায় ২ বছর মানুষ বাধ্য হয়েই বাড়ি থেকে কাজ (Work From Home) করছিলেন। তবে কোভিড প্রায় নিয়ন্ত্রণে আসলেও আজও অনেক কোম্পানিরই কর্মচারীরা হোম অফিস করে চলেছেন। এতে কিছু সুবিধা রয়েছে, তেমনই রয়েছে কিছু অসুবিধাও।

বাড়ি থেকে কাজ করলে মানুষ পরিবারের সঙ্গেও কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পারেন। কারণ, অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে বেশি সময় ব্যয় হয় না মানুষের। অসুবিধার দিকটা হল, হোম অফিসে একটু বেশি করে কাজ করতে হয়, কারও সঙ্গে আড্ডা দেয়ার সুযোগ থাকে না, নেই কথাবার্তাও। শুধু ভিডিও কনফারেন্স করেই কেটে যায় Work From Home এর দিনগুলো।

তবে কলাম্বিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলছেন, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তা খুব বেশি কাজ করে না যা অফিসে বসে সম্ভব। বরং ঘন ঘন ভিডিও কনফারেন্স করলে একজন ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাড়ি থেকে কাজ (Work From Home) করছিলেন এমন ১,৫০০ জনকে নিয়ে এই গবেষণাটি চালানো হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের জন্য সেই ১৫০০ জনকে বিভিন্ন দলে ভাগ করা হয়েছিল। আর তারপরেই তাঁদের নতুন প্রডাক্ট আইডিয়া নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল।

গবেষকরা লক্ষ্য করেন, একটা নির্দিষ্ট টপিকে আইডিয়া নিয়ে আসার জন্য যাঁদের ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিতে বলা হয়েছিল, তাঁরা ঘণ্টায় গড়ে ৭.৪৩টি আইডিয়া নিয়ে আসতে পেরেছিলেন। অন্য দিকে যাঁদের অফিসে বসে বিভিন্ন টপিকে আইডিয়া উপস্থাপন করতে বলা হয়েছিল, তাঁরা প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৮.৫৮ টি আইডিয়া নিয়ে হাজির হতে পেরেছিলেন।

গবেষণাপত্রের সহ-লেখক প্রফেসর মেলানি ব্রাকস বলছেন, অফিসে গিয়ে ইন-পার্সন কোনও একটা মিটিং করলে সেখানে কোনও বাধা থাকে না। কিন্তু ভার্চুয়াল স্পেসে একজন অন্য আর একজনের সঙ্গে আলোচনা যোগাযোগ করার সময় সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেই ডিভাইসের স্ক্রিন, যা প্রায় সেই ভিডিও কনফারেন্সে প্রতিটি সদস্যের জন্যই সমান সমস্যার।

গবেষকরা আরও দাবি করেন, ভার্চুয়ালি আলোচনা করার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের ভিজ্যুয়াল স্ক্রিনে বেশি মনোনিবেশন করে থাকেন। এর ফলে মানুষের ভাবনা-চিন্তার প্রক্রিয়া অনেকটাই সংকুচিত হয়। এসব কারণেই ভার্চুয়াল কনফারেন্সে মানুষের চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়াটি এক জায়গাতেই আটকে থেকে যায়।

Leave a Reply