ফেসবুকে রিচ বাড়াতে জেনে নিন এই পদ্ধতিগুলো -Update 2022

How to increase Facebook reach : ফেসবুকে রিচ বাড়াতে পোস্ট কখন করতে হবে তা ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের অনেকেই জানেন না । ইতোমধ্যে  ফেসবুকের অ্যালগরিদম আপডেট করা হয়েছে। এ কারণে যে কোনো পোস্টের রিচ কমে যাচ্ছে বিধায় অনেক ব্যবহারকারী হতাশায় ভুগছেন।আবার সঠিক সময়ে ফেসবুকে ছবি, ভিডিও আপলোড বা কোনও স্ট্যাটাস না দেয়া হলে কোনও এনগেজমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে সমস্যায় পড়তে হয় অনেকের। কোন্ সময় ফেসবুকে পোস্ট করছেন সেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেককেই প্রয়োজনে কোনও পেজ থেকে প্রমোশন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ফলে এনগেজমেন্ট না বাড়াতে পারলে ওই প্রমোশন কোন কাজে আসে না। তাই ফেসবুকে রিচ বাড়াতে পোস্ট করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় নজরে রাখলেই এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সঠিক সময়ে সঠিক পোস্ট দেয়া।

যখন ইচ্ছা পোস্ট করলেই কিন্ত ফেসবুকে সমান এনগেজমেন্ট পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ সব সময় ফেসবুকের ট্র্যাফিক সমান থাকে না। এমনকি সব দিসের সব সময়ে তা সমান থাকে না। সেকারণে নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ফেসবুকে কন্টেন্ট আপলোড করা জরুরি। তাছাড়া আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে আরো নিরাপদ করতে আপনি কিছু পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন।

ফেসবুকের অ্যালগরিদম কী

ফেসবুক নির্দিষ্ট সময় পর পর নিজেদের অ্যালগরিদম পরিবর্তন করে থাকে। আবার অ্যালগরিদম পলিসির কী কী পরিবর্তন আনা হয়েছে সে ব্যাপারে ফেসবুক কখনোই কিছু প্রকাশ করে না। ফলে এখন রিচ বাড়াতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন কিছুদিন পর সেই পদ্ধতি কাজে নাও লাগতে পারে। কাজেই আপনি নির্দিষ্ট ঠিক কোন কোন পদ্ধতিতে আপনার ফেসবুক পেজের রিচ বাড়াবেন তা বলা খুবই মুশকিল।

ফেসবুকে রিচ কমে যাওয়ার কারণ

কোন ব্যবহারকারী যখন ফেসবুকে লগ-ইন করে তখন ফেসবুকের অ্যালগরিদম ওই ব্যবহারকারীর প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে দেখে যে, তার কোনও বন্ধু বা কোনও পেজ থেকে নতুন কিছু পোস্ট করা হয়েছে কিনা। করে থাকলে সেগুলি ওই ব্যবহারকারী পছন্দ করে কিনা। ওই কন্টেন্টগুলিতে ব্যবহারকারীর এনগেজমেন্ট হওয়া অর্থাৎ কমেন্ট, লাইক বা শেয়ার করার সম্ভাব্যতা যাচাই করে ব্যবহারকারীকে ওই পোস্টগুলো দেখানো হয়।

ফেসবুক অ্যালগরিদমের সাহায্যে তার ইউজারদের মনোভাব বুঝে নিউজফিডে ইউজারদের মতো করে পোস্ট সাজেস্ট করে। ধরুন, টেকনোলজি বিষয়ক কোন একটি ফেসবুক পেজের পোস্ট আপনি আগে পড়তেন বা লাইক দিতেন; এখন দিচ্ছেন না। ফেসবুকও আপনার মনোভাব বুঝে এখন আর ওই টেকনোলজি বিষয়ক পোস্ট আপনার নিউজ ফিডে দেখাবে না। ফলে ওই ফেসবুক পেজ এখন আর আপনার এনগেজমেন্ট পাবে না বিদায় ওই পেজের রিচ কমে যাবে।

আবার কন্টেন্ট পোস্ট করার সময় একটি মারাত্মক ব্যাপার। অর্থাৎ আপনি কোন সময়ে ফেসবুকে পোস্ট করছে সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। যেমন, আপনি যদি আপনার পেজে কোন পোস্ট মধ্যরাতে দেন তাহলে তা এমনিতেই বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা পড়তে পারবে না। একইভাবে যখন ফেসবুকে তেন ট্রাফিক থাকবে না, তখন যদি আপনি পোস্ট করেন তাহলে আপনার পোস্টের রিচ একেবারেই কম হবে।

আপনার কন্টেন্টে পড়ার মতো তথ্য থাকতে হবে যাতে ফেসবুক ব্যাবহারকারীরা সময় নিয়ে পড়ে। কন্টেন্টে যত ভালো তথ্য থাকে রিচ তত বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।

ফেসবুকে লাইক কমে যাওয়ার কারণ সঠিক সময়পোস্ট না করা 

ফেসবুকে কন্টেন্ট আপলোডের সঠিক সময় কখন? এ নিয়ে গবেষণা করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে একটি সংস্থা। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, সকালের কিছু পরেই যদি ফেসবুকে পোস্ট করা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে সব থেকে বেশি এনগেজমেন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু চলতি বছর থেকে পরিস্থিতি বেশ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত খুব সকালে কন্টেন্ট পোস্ট করলে সবচেয়ে বেশি এনগেজমেন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং বেশি সংখ্যক মানুষ সেই কন্টেন্ট দেখেন।

১) সোমবার থেকে শুক্রবার ভোর ৩ টা থেকে এনগেজমেন্ট ভালো পাওয়ার সম্ভবনা থাকে। অন্যদিকে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ভালো এনগেজমেন্ট পাওয়া যেতে পারে।

২) মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ফেসবুকে পোস্ট করলে সবথেকে বেশি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

৩) শনিবার ফেসবুকে কন্টেন্ট আপলোড করা উচিত নয়। কারণ ওই দিন পোস্ট করলে ফেসবুকে রিচ সবথেকে কম আসে।

ফেসবুকে রিচ মার্ক জুকারবার্গের ৭ পরামর্শ

ফেসবুকে রিচ

ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা জুকারবার্গের মতে, ফ্রেন্ডস এবং ফ্যামিলির পোস্ট এবং যে পোস্টগুলোতে অর্থবোধক এনগেজমেন্ট আছে, এ রকম পোস্টগুলোকে ফেসবুক রিচ বাড়িয়ে দেবে। এক্ষেত্রে তিনি ৭ টি পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবহারকারীদের। এগুলো হলো-

সর্বশেষ পোস্ট

সর্বশেষ পোস্টকেই ফেসবুক ব্যবহারকারীর নিউজফিডে শো করবে। অর্থাৎ ব্যবহারকারী পেজে সকালে একটা পোস্ট করলে যে বিকাল বা রাতে ফেসবুকে ঢুকেছে, সে তার প্রোফাইলে অন্য পেজগুলোর পোস্ট দেখবে, যেগুলো হয়তো কিছুক্ষণ আগে পোস্ট করা হয়েছে, কিন্তু পুরোনো পোস্ট তার প্রোফাইলে দেখাবে না।

পোস্ট দিতে হবে নিয়মিত

ফেসবুকে রিচ বাড়াতে চাইলে গ্রুপে, প্রোফাইলে এবং অবশ্যই পেজে প্রতিদিন ৫-৭টা করে পোস্ট করতে হবে।

পোস্টের লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার সংখ্যা হিসাব

কোনো পোস্টের লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার কি পরিমাণ রয়েছে, সেটির ওপর ফেসবুক পোস্টটির গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করে। এর মধ্যে শেয়ারেরমূল্য বেশি, ২য় হচ্ছে কমেন্ট, ৩য় হচ্ছে লাইক। অর্থাৎ এমন পোস্ট করতে হবে, যাতে মানুষজন কমেন্ট করতে বাধ্য হয় এবং শেয়ার করতে আগ্রহী হয় তবেই ফেসবুকে রিচ বাড়বে।

প্রতিদিন কিছু এনগেজমেন্ট পোস্ট

পেজের আগের পোস্টগুলোতে যে মেম্বার কোনো ধরনের এনগেজ ছিল না, সেই পোস্টকে ওই মেম্বারের নিউজফিডে প্রদর্শন করবে না। সুতরাং পেজের ১ লাখ মেম্বার থাকলেও লাভ নেই, যদি কোনো পোস্টে তাদের এনগেজমেন্ট না থাকে। তাই পেজে সেলস পোস্টের পাশাপাশি প্রতিদিন কিছু এনগেজমেন্ট পোস্ট, কমপক্ষে কুইজ পোস্ট হলেও যাতে করা হয়। তাহলে মানুষজন কমেন্ট করবে, তাতেই কাজ হবে।

আগের পোস্টের ধরন

একজন ব্যবহারকারীর আগে যে ধরনের পোস্ট পড়ছে কিংবা কমেন্ট, লাইক করেছে, সে ধরনের পোস্টগুলোই বারবার প্রদর্শন করবে। ব্যবহারকারীর পছন্দ বুঝতে ফেসবুক অ্যালগরিদমের সাহায্যে আরও কিছু ডাটা বিবেচনা করে। কোন ধরনের পেজে লাইক দেয়, কোন টাইপ পোস্টগুলো পড়তে সময় ব্যয় করে ও ইন্টারেস্ট টপিকস ফেসবুক অ্যালগরিদমের সাহায্যে বোঝার চেষ্টা করে, সেই অনুযায়ী পোস্ট প্রদর্শন করবে। তাই সেলস পোস্ট করার সময়ও সেই প্রডাক্ট রিলেটেড কোনো শিক্ষামূলক কিংবা বিনোদনমূলক কোনো কনটেন্ট তৈরি করতে হবে।

নেগেটিভ ফিডব্যাক বিবেচনা করে ফেসবুক

পোস্ট কিংবা পেজে যদি কেউ রিপোর্ট করে কিংবা আনফলো করে তাহলে সেই পেজের কিংবা সেই ব্যক্তির পোস্টের রিচ ফেসবুক অনেক কমিয়ে দেয়। তাই বেশি মাত্রায় প্রডাক্ট বিজ্ঞাপন দিলে, মানুষজন তাদের নিউজফিডে বিজ্ঞাপন দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে আনফলো করতে পারে। এ আনফলো করা লোকসংখ্যা বেড়ে গেলে ফেসবুকে রিচ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে ফেসবুকে মানুষ বাজার করার জন্য ঢোকে না। একটু আনন্দ পেতে, আড্ডা দিতে, রিফ্রেশ হতে ঢোকে।

পোস্টটি অন্যের জন্য উপকারী হতে হবে

পোস্টটি মানুষজনের জন্য কতটা উপকারী কিংবা কতটা পছন্দ করেছে, সেটির ওপর ফেসবুক আপনার পোস্টের গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করে এবং সেভাবে রিচ বাড়িয়ে দেয়। সেজন্য এমন পোস্ট করতে হবে যাতে হা হা রিয়েক্ট না, লাইক কিংবা লাভ রিয়েক্ট পাওয়া যায়। তাহলে ফেসবুকে রিচ বেড়ে যাবে।

Leave a Reply